নোয়াখালীর সংস্কৃতি অঙ্গনকে যারা উজ্জীবিত করলেন

Shuborno Provaat - সুবর্ণ প্রভাত
অধ্যক্ষ রমানাথ সেন

অধ্যক্ষ রমানাথ সেন : যে কোনো এলাকাতেই সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, শিক্ষা, প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে। সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও আপেক্ষিকভাবেই হয়ে থাকে। বংশগত পরম্পরা সেখানে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে অনেক ক্ষেত্রে। ১৯৪৮ সালে নদীভাঙা পুরনো নোয়াখালী শহরটি যখন সোনাপুর-মাইজদী অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠতে শুরু করে তখন এখানে কোনো সংগীত বিদ্যালয়, নাট্যচর্চাকেন্দ্র, নৃত্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বলতে কিছুই ছিল না। এসব বিষয়ে ভালো কোনো প্রশিক্ষকও ছিলেন না। একটি অনগ্রসর, নবগঠনোন্মুখ জেলা শহরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উপরোক্ত বিষয়গুলোতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সমষ্টিগত উদ্যোগেই বিভিন্ন উপলক্ষে আবৃত্তি, গান, নাচ, নাটকের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ হতো। মঞ্চগুলো অধিকাংশই তৈরি হতো সাময়িকভাবে। অনুষ্ঠান শেষে তা ভেঙে ফেলা হতো। ঐ সময় নোয়াখালীতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যারা কাজ করতেন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন কণ্ঠে সত্যগোপাল নন্দী, মোঃ আবদুল ওয়াসী, অতুল সূত্রধর, খগেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী, ভক্তিময় ঘোষ, কন্ঠ ও বাঁশিতে সলিল মজুমদার, দোতারায় আবদুস সালাম, সেতারে অমূল্য সূত্রধর, বেহালায় মনোরঞ্জন আঁইচ, তবলায় রমনী মোহন দাস, মুরারী মোহন দেব, অনাথ বন্ধু নাথ, বীরেন্দ্র কুমার সাহা ম ল, ডা. ক্ষিতিশ রায় চৌধুরী (বেহালা ও সানাই), দেবেন্দ্র সূত্রধর (কণ্ঠ, জলতরঙ্গ), সংগঠকের দায়িত্ব পালন করতেন আকবর হোসেন চৌধুরী মজনু, প্রমথ নাথ সেন দুলাল, বেনু মজুমদার, নাজমুল আহসান মন্টু, মোঃ হারুন, কানু মজুমদার প্রমুখ। তখন নতুন নতুন গান শেখার জন্য কলের গানই ছিল প্রধান ভরসা। এছাড়া একমাত্র সিনেমা হল ‘রৌশন বাণী টকিজ’-এ প্রতিদিন প্রদর্শনী শুরু হবার আগে তখনকার জনপ্রিয় গান মাইকে বাজান হতো। গানপাগল অথচ ঘরে বা ধারে-কাছে কোথাও কলের গান নেই, এমনদের জন্য ভরসা ছিল সিনেমা হলের ঐ গানগুলো। মাইকের ঐ গান শুনে শুনে গানের কথা ও সুর উভয়ই মুখস্ত করতে হতো। এমনি করে একেকটি গান আয়ত্ব করতে অনেক সময় লেগে যেতো। ঘরে ঘরে বেতারের প্রচলনও তখন হয়নি। সারা শহরে হাতেগোনা দু’চারটি বাসায় হয়তো এর ব্যবস্থা ছিল। শহরের হিতৈষী প্রেসের মালিক আকবর হোসেন চৌধুরী মজনু সংস্কৃতি অনুরাগী ছিলেন। তিনি তার বাসায় মাঝে মাঝে গানের আসর বসাতেন। গোপাল দা, অতুল দা, সালাম ভাই, সলিল দাসহ কয়েকজন সংগীতানুরাগী একান্ত ঘরোয়া পরিবেশে অনেক রাত পর্যন্ত গান-বাজনা করতেন। শ্রোতা হিসাবে পারিবারিক ও আশপাশের সংগীত রসিকজন উপস্থিত থাকতেন। এ ধরনের আয়োজন পরবর্তীতে আরো কয়েক বাসায় হতে দেখেছি। ইয়াকুব আলী, বাবু শৈলেশ চন্দ্র রায়, শহীদুল ইসলাম (তনু) ও তোফাজ্জল হোসেন এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
নাটকের চর্চা যেটুকু হতো তা ছিল টাউন হলকেন্দ্রিক। ওখানে বিভিন্ন নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর মহড়া হতো। ইয়াকুব আলী, আমিনুর রসুল, নির্মল কৃষ্ণ মজুমদার, কাজী মাহফুজুল হক মাধু মিয়া, আকবর হোসেন চৌধুরী, মফিজুল হায়দার চৌধুরী প্রমুখরাই প্রধানত নাটক পরিচালনা করতেন। বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে অভিনয় করতেন সন্তোষ কুমার রায়, সন্তোষ গুপ্ত, শচীন দত্ত, নিকুঞ্জ বিহারী চৌধুরী, ডা. গফুরসহ আরো অনেকে। নারী চরিত্রে অভিনয় করার জন্য কোনো মেয়েকে পাওয়া যেতো না। ছেলেরাই মেয়ে সেজে অভিনয় করতেন। নারী চরিত্রে অভিনয় করতেন মিলন ভট্ট, বিমলেন্দু মজুমদার, মোঃ নুরুজ্জামান, আবদুল হাই এবং দেবু দে প্রমুখ। ধীরে ধীরে এর পরিবর্তন হয়েছে। এই টাউন হলেই নারী চরিত্রে নারীরাই প্রথম অভিনয়ের মাধ্যমে কল্যাণ মিত্রের ‘দায়ী কে’ নাটক মঞ্চস্থ করে।
এই নাটকে প্রথম মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন মরহুম শহিদ উদ্দীন এস্কান্দার কচি ভাইয়ের সহধর্মিণী লায়লা আর্জুমান্দ রুবী এবং তার সাথে অন্য তিনটি নারী চরিত্রে অভিনয় করেন কচি ভাইয়ের তিন ভাগ্নী ফরিদা খানম সাকী, শিরীন জাহান দিলরুবা আলেয়া ও ফৌজিয়া আক্তার। এ নারী শিল্পীদের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের নাটকে নারীদের আবির্ভাব ঘটে। বিচারকের ভূমিকায় অভিনয় করেন কচি ভাই। নাটকে অন্যদের মধ্যে ছিলেন রামেন্দু মজুমদার, বিমলেন্দু মজুমদার, নেজামুল হক নেজু প্রমুখ। সে নাটকে স্মারক (প্রমোটর) ছিলেন ভক্তি ঘোষ, হারমোনিয়ম বাজিয়ে আবহসঙ্গীতের পর্বটি সম্পন্ন করি আমি। নাটকটি পরিচালনা করেছিলেন কাজী মাহফুজুল হক। পরে নাটকের নারী চরিত্রে মায়া হকের আবির্ভাব ঘটে।
পৌরকল্যাণ হাইস্কুলে প্রতিবছর অন্তত একটি নাটক মঞ্চস্থ হতো। ঐ নাটকে স্কুলের ছাত্র ছাড়াও কয়েকজন শিক্ষক অভিনয় করতেন। ঐ শিক্ষকদের মধ্যে অভিনয় করতেন ষষ্ঠীচরণ বিশ্বাস, তারকবন্ধু নাথ, মাধব কুমার দত্ত প্রমুখ। প্রধান শিক্ষক বাবু প্রফুল্ল কুমার ভট্ট পড়ালেখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সকলকে খুব উৎসাহ দিতেন। হরিনারায়ণপুর উচ্চবিদ্যালয় ও অরুণচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়েও অনুরূপ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। রবীন্দ্রজয়ন্তী, নজরুলজয়ন্তী ও নববর্ষে কল্যাণ স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রভাতফেরির আয়োজন করতো। কাজগুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য গোপালদা, অতুলদা, মজনু ভাই, দুলাল দাসহ কয়েকজকে দায়িত্ব দিতেন ভট্ট বাবু।
মাইজদী গালর্স একাডেমির পাশে ছিল প্রসন্ন মজুমদার মহাজনের বাড়ি। পৌরকল্যাণ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে রাস্তার অপরপ্রান্তে প্রসন্ন বাবুর একটি দোকান ছিল। গান-বাজনা, নাটক ইত্যাদি খুব ভালোবাসতেন তিনি। তার বাড়ির পাশাপাশি সত্যগোপাল নন্দী ও এমএ ওয়াহেদের বাড়ি ছিল। সংস্কৃতিমনা প্রসন্ন বাবু তার দোকানঘর জায়গাসহ দান করেছিলেন সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য। সময়টা ১৯৫৮ কি ১৯৫৯ সালের দিকে। ১৯৬২ সালে শহীদুল ইসলাম তনু, এমএ ওয়াহেদ, শৈলেশ চন্দ্র রায়, আকবর হোসেন চৌধুরী, প্রমথনাথ সেন, আবদুস সালাম, সত্য গোপাল নন্দী প্রমুখের প্রচেষ্টায় ঐ গৃহে প্রথমে ‘স্কুল অব ফাইন আর্টস’ পরে ‘ললিতকলা বিদ্যালয়’ নামে একটি সংগীত বিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
এখন সে স্থান থেকে ‘ললিত কলা বিদ্যালয়’ কল্যাণ স্কুলের পিছনে স্থানান্তর করা হয়েছে। সত্যগোপাল নন্দীর বড় ছেলে কেশব নন্দী (কণ্ঠ ও তবলা)-এর তত্ত্বাবধায়ক ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটির কর্মকর্তা ছিলেন শহীদুল ইসলাম (তনু), এমএ ওয়াহেদ ও শৈলেশ চন্দ্র রায়। শিক্ষক হিসেবে ছিলেন মোঃ আবদুল ওয়াসী। তিনি ঢাকা মিউজিক কলেজের ছাত্র ছিলেন। তবলায় শিক্ষক ছিলেন বাবু বিমলেন্দু মজুমদার।
১৯৬২ সালে শিশুদেরকে সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার মানসে সাবেক এমপি মাহমুদুর রহমান বেলায়েতসহ আরো কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মীর প্রচেষ্টায় ‘মৌমাছি কচিকাঁচার মেলা’ নামে শিশু সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। এর কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো টাউন হলের একটি কক্ষে। কচিকাঁচার মেলার পরিচালনায় ‘মৌমাছি সংগীত বিদ্যায়তন’ আত্মপ্রকাশ করে ১৯৭২ সালে। এতে পরিচালক কাজী মাহফুজুল হক, সম্পাদক বিমলেন্দু মজুমদার, সংগঠক মহিউদ্দিন ফারুক ছিলেন। এই সময় সাংবাদিক আবু তাহের, আসাদুজ্জামান বেলাল, বখতিয়ার শিকদার, মাহমুদুল হক ফয়েজ, আমিনুল ইসলাম মিলনসহ আরো অনেকে ছিলেন। শিক্ষক ছিলেন কুমিল্লার শ্রী কুলেন্দু দাস (কণ্ঠ), ময়মনসিংহের প্রদীপ জোয়ারদার (কণ্ঠ), আমি রমানাথ সেন (কণ্ঠ) এবং শ্রী গৌরাঙ্গ সরকার (তবলা)।
১৯৬৪ সালে শিল্পীদেরকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে শিল্পীদেরই সম্মিলিত চেষ্টায় ‘নোয়াখালী শিল্পী সংঘ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পৌরকল্যাণ উচ্চবিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে একটি টিনের চৌচালা ভাড়া ঘরে এ সংঘের কার্যক্রম শুরু হয়। সংঘের সভাপতি ছিলেন কাজী মাহফুজুল হক, সাধারণ সম্পাদক বিমলেন্দু মজুমদার, যুগ্ম সম্পাদক রমানাথ সেন ও প্রচার সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম চুন্নু। তখন এখানে অনেক শিল্পী আসতেন। চৌমুহনী থেকে আসতেন শ্রী জগদীশ সাহা (কণ্ঠ), বীরেন চক্রবর্তী (কণ্ঠ), সরোজ সাহা ম ল (তার সানাই) এবং তালাত মাহমুদের কন্ঠে ‘তোমারে লেগেছে এতো যে ভালো চাঁদ বুঝি তাই জানে’সহ অনেক জনপ্রিয় গানের গীতিকার কে জি মোস্তফা। এখানে সন্ধ্যার দিকে প্রায়ই গানের আসর বসতো। শিল্পী, শিল্পানুরাগীদের পদচারণার ফলে কল্যাণ স্কুল ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলে একটি সাংস্কৃতিক পরিম ল গড়ে উঠেছিল। সে সময়ে তুলির আঁচড়ে বিভিন্ন ধরনের ছবি এঁকে চিত্রকর হিসেবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শিল্পী মরহুম মফিজুল হক।
১৯৬৭ সালে ফাল্গুনী নাট্যগোষ্ঠীর জন্ম হলে এতে সভাপতি হিসেবে ছিলেন কে জি মোস্তফা ও সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল গোফরান। এক সময় ফাল্গুনী নিস্ক্রিয় হয়ে যাবার পর রামেন্দু মজুমদার, কাজী মাহফুজল হক, আবু তাহের ও জগদীশ সাহার উদ্যোগে জন্ম নেয় বহুব্রীহি।
১৯৭২ সালের শেষের দিকে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমানকে সভাপতি, সাংবাদিক কামাল উদ্দিন আহমেদকে সম্পাদক, শৈলেশ চন্দ্র রায়কে দপ্তর সম্পাদক, জাহাঙ্গীর সাইফুল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ‘নোয়াখালী সংগীত বিদ্যালয়’ যাত্রা শুরু করে। ভবনটি তৈরি হয় কোর্ট বিল্ডিংয়ের দিঘির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে। জেলা প্রশাসকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী আবদুর রশিদের আর্থিক সহযোগিতায় ভবনটি নির্মিত হয়। ঐ সময় জেলা প্রশাসক ছাড়াও এডিসি (সার্বিক) মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী সানওয়ার আলী (বাঘা বাঙালি), এডিসি (রিলিফ) উপেন্দ্র চন্দ্র সরকার, মহকুমা প্রশাসক মার্ত্য প্রতাপ বড়ুয়া, রিলিফ অফিসার রেজা এ রাব্বী, জেলা জজ অমিয় ভূষণ পোদ্দার, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ডা. মশিউর রহমান, ডা. আতা-এ-রাব্বী এবং উপেন্দ্র চন্দ্র সরকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ অবদান রাখেন। নোয়াখালী সংগীত বিদ্যালয়ের সংগীত শিক্ষক ছিলেন কুলেন্দু দাস (কুমিল্লা), অতুল সূত্রধর, গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার ও পরে আবু তাহের। পরবর্তীতে সংগীত বিদ্যালয়কে শিল্পকলা একাডেমিতে রূপান্তর করা হয়।
সত্তরের দশকের সময়টাকে নোয়াখালীর সংগীতাঙ্গনের সবচেয়ে জমজমাট সময় বলা যেতে পারে। ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ, একুশে ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তী, নজরুলজয়ন্তী, নবান্ন উৎসব দিনগুলো যথাযোগ্যভাবে পালিত হতো। তখনকার অনুষ্ঠানগুলোতে ‘গীতিনকশার প্রাধান্য ছিল’। সত্তর এবং পরে আশির দশকে কয়েকটি গীতিনকশা, নৃত্যনাট্য লেখা ও সুরারোপ করা হয়েছে এবং মঞ্চস্থ হয়েছে। মনে পড়ে গীতিনকশা ‘নবান্ন’, ‘ভাঙাগড়া নোয়াখালী’ রচনা করেন বিমলেন্দু মজুমদার। নবান্নর একটি গান ‘ও পদ্মা…’ সুর করেন কুলেন্দু দাস এবং অন্যান্য গানগুলো সংগৃহীত। ‘ভাঙাগড়া নোয়াখালী’ গানগুলোর সুর করেন সত্যগোপাল নন্দী, চিত্তরঞ্জন ভূঞা এবং আমি। আশির দশকে নৃত্যনাট্য ‘মেঘনাপাড়ের পাঁচালী’ রচনা করেন বদিউজ্জামান বড়লস্কর। তিনি জেলা প্রশাসনের ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন। এ সময়ে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় বিমলেন্দু মজুমদার রচিত ও রমানাথ সেনের সুরে ‘আইয়েন বেকে দেশ গড়ি’ নৃত্যনাট্য মঞ্চস্থ হয়। এ সময় মফিজুল হক চিত্রশিল্পী হিসেবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান রাখেন।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এখানে বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও অন্যান্য অনুষ্ঠান উপলক্ষে বেশকিছু দেশাত্ববোধক ও প্রাসঙ্গিক গান রচিত ও সুরারোপিত হয়েছে। ঐ গানগুলো বিমলেন্দু মজুমদার, ত ম ফারুক, ফরহাদ মজহার, এ এ কে এম ফেরদৌস, কামরুন্নেছা হাবিবসহ আরো অনেকে রচনা করেছিলেন এবং সুরারোপ করেছেন কুলেন্দু দাস, সত্যগোপাল নন্দী, অতুল সূত্রধর, আমি ও চিত্তরঞ্জন ভূঁঞা প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্থানীয়ভাবে লেখা ও সুরারোপিত গানগুলো গাওয়ার প্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হতো। সত্তরের দশকে জেলায় জেলায় এক্সিবিশন বা প্রদর্শনী হতো। শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে এই প্রদর্শনীর প্রধান আকর্ষণ ছিল সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, পুতুল নাচ, সার্কাস, রাতভর যাত্রা ইত্যাদি। তখন শহরের বিভিন্ন নাট্যসংগঠন এসে মঞ্চে নাটক মঞ্চস্থ করতো।
১৯৭৪ সালে কয়েকজন তরুণ নাট্যপ্রেমিক বখতিয়ার শিকদার, প্রদীপ মজুমদার, আবদুল আউয়াল, মেসবাহউদ্দিন আহমেদসহ আরো কয়েকজন নাট্যকর্মীর চেষ্টা ও উৎসাহে ‘অভিনয় নোয়াখালী’ নামে একটি নাট্য সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর আগেও এদেরই কয়েকজনকে নিয়ে অপর একটি নাট্য সংগঠন ‘চতুরঙ্গ’ গঠিত হয়েছিল। এসব তরতাজা তরুণের পদচারণায় এখানকার নাট্যাঙ্গন আরো বেগবান হয়। অন্যান্য দলের মতো এ দলটিও জেলার নাট্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। এর সভাপতি ছিলেন বখতিয়ার শিকদার এবং সম্পাদক মনু গুপ্ত।
১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে নোয়াখালী পৌরহলের দ্বার উন্মোচন হলো। ঐ সময় পৌরসভার চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ এবং জেলা প্রশাসক ছিলেন জিয়াউদ্দিন মোহাম্মদ চৌধুরী। পৌরহলের কাজ যখন পূর্ণদ্যোমে চলছিল তখন সারা শহরে একটি কথা প্রচারিত হয়েছিল যে, ঐ হলটি একটি সিনেমা হল হবে। এ বিষয়টি সংস্কৃতিকর্মীদের ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। সবাই মিলে পৌর চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে হলটিকে পুরোপুরিভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করার জোর দাবী জানান। এতে নেতৃত্ব দেন কাজী মাহফুজুল হক, মফিজুল হায়দার চৌধুরী, আকবর হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। পরে হলটি সিনেমা হলে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয় এবং তখন থেকে পৌরহলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদিই হয়ে আসছে। এখন তা নেই।
মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব অর্থাৎ পাকিস্তান আমলের ‘আর্টস কাউন্সিল নোয়াখালী’-এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার, নোয়াখালীর কৃতি রাজনীতিবিদ আবদুল মালেক উকিল। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এর নাম হয় ‘শিল্পকলা পরিষদ, নোয়াখালী’। এর সভাপতি ছিলেন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল করিম। ১৯৭৫ সালে এর নাম হয় ‘শিল্পকলা একাডেমী’। ১৯৭৫-৭৮-এ শিল্পকলা পরিষদের সভাপতি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মফিজুল হায়দার চৌধুরী। ১৯৭৮ সালে ‘শিল্পীপুল’ নামে একাডেমির জন্য নিজস্ব একটি শিল্পীদল গঠিত হয়। পরবর্তীতে তা বিলুপ্ত করে একাডেমিতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ শিল্পীরা জেলা শহরে এসে স্থানীয় শিল্পীদের মধ্য থেকে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, তালযন্ত্রশিল্পী, নাট্যশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী বাছাই করতেন। বর্তমানে প্রশিক্ষকদের মধ্যে আছেনÑ সংগীতে রমানাথ সেন, মোঃ কামালউদ্দীন, সুখেন্দু বিকাশ ভৌমিক, মোঃ মোজাম্মেল হক, নৃত্যে বানী সাহা, সজল মজুমদার, তালযন্ত্রে তপন বিকাশ মজুমদার, সঞ্জিত দাস, শিমুল দাস ও চিত্রাংকনে অজয় দত্ত, মোঃ জহির উদ্দিন সুজন।
১৯৭৮ সালের পর নোয়াখালী শিল্পকলা একাডেমির সম্পাদক পদে ছিলেন সাংবাদিক বখতিয়ার শিকদার। কালচারাল অফিসার ছিলেন তাপস ঘোষ। ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ম্যাজিষ্ট্রেট দীলিপ কুমার সাহা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে শিল্পকলা পরিষদের কাজকর্ম পরিচালিত হতো বর্তমান আইনজীবী সমিতির পিছনে (দক্ষিণ পাশে) টিনের একটি চৌচালা কক্ষে। সেখানেই শিল্পীপুল পরিবেশিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মহড়া অনুষ্ঠিত হতো। পরবর্তীতে শিল্পকলা একাডেমিতে এ মহড়া হয়ে আসছে।
পরবর্তীতে নোয়াখালী সংগীত বিদ্যালয় ভবনে স্থানান্তরিত হলে এখানেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। স্বাধীনতার পরে বেশকিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন মাইজদীতে আত্মপ্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে নোয়াখালী সংগীত বিদ্যালয়, মৌমাছি সংগীত বিদ্যায়তন, চতুরঙ্গ, অভিনয় নোয়াখালী, চারণিক, নবারুণ সংগীত বিদ্যালয়, লক্ষ্মীনারায়ণপুর থিয়েটার, ভুলুয়া থিয়েটার, সুবচন থিয়েটার, সুবর্ণরেখা, মঞ্চ নোয়াখালী, জাতীয় কবিতা পরিষদ, নোয়াখালী জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলন পরিষদ, নোয়াখালী, কল্লোল শিল্পীগোষ্ঠী, উদীচী, নোয়াখালী আবৃত্তি একাডেমী, আত্মমুক্তি খেলা ঘর আসর, দিবা সঙ্গীত বিদ্যালয়, নোয়াখালী থিয়েটার, নবজাগরণ খেলাঘর আসর, উম্মেষ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, শিশু নাট্যম, নৃত্যভূমি, নৃত্যদলসহ আরো বেশকিছু নবগঠিত সংগঠন এখানকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখে চলেছে।
১৯৭০-পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এসেছেন। কিছু কিছু নাম আগে উল্লেখ করেছি। আরো কিছু নাম এখানে উল্লেখ করছি। এদের মধ্যে রয়েছেনÑ জাহাঙ্গীর সাইফুল ইসলাম, মোঃ হান্নান, আজিজুর রহমান ইকবাল, মাহমুদুল হক ফয়েজ, মোঃ সোহরাব, অমিয় প্রাপন চক্রবর্তী, ব্রজেন্দ্র মজুমদার হারু, মাখনলাল, মোহসীন চৌধুরী দুলাল, অধ্যাপক মোঃ হাশেম, মোঃ কামাল উদ্দিন, তাহের জামিল নোমান, মোঃ আবু তাহের, সুখেন্দু বিকাশ ভৌমিক, একরামুল হক কায়েস, নুরুন্নাহান জেসমীন, ঝুমু রায়, শুক্লা ভৌমিক, মিনাক্ষী রক্ষিত, শাহাজাহান, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মোঃ শরীফ, মোঃ জসীম, দিদারুল আলম, আবুল হোসেন বাঙ্গালী, কুঞ্জলাল কর্মকার, শোভা খান, তপন বিকাশ মজুমদার, কাজল ভট্টাচার্য, মুনশী ফারুক, শাহ ফরহাদ, মীরণ মহিউদ্দিন, শহীদুল হক চৌধুরী মিন্টু, মাহবুবুর রহমান স্বপন, ফরিদউদ্দিন মনু, নিজাম উদ্দিন মানিক, মায়া হক, গৌরী রায়, জাহাঙ্গীর কবির, ছন্দা ভূঁঞা, নিয়তি ভূঁঞা, স্মৃতি ভূঁঞা, হাবলু ভূঁঞা, মাধুরী ভূঁঞা, রবিউল হোসেন কচি, কেশব সরকার, সঞ্জিত দাস, শিমুল দাস, মাহবুব আরা লাকী, নাসরীন সুলতানা, মাহবুবুল হক, মোঃ জাফর, নারায়ণ চন্দ্র শীল, শিপ্রা দাস, মোঃ ইকবাল, সবিতা দাস, তনু কর, শ্যামল মাহমুদ, বানী সাহা, শিবানী সাহা, মরহুম শাহ ফরহাদ, আ ন ম জাহের উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন মিন্টু, মোঃ ফেরদৌস, মাহবুবুর রহমান সবুজ, এমদাদ হোসেন কৈশোর, ফরিদ উদ্দিন, মোঃ মোর্শেদ, শ্রাবণী মজুমদার, বৈশাখী মজুমদার, অগ্রণী মজুমদার, সীমা মজুমদার, সাথী চক্রবর্তী, সাদেকা আক্তার মনি, প্রহল্লাদ বণিক, সাবেরা সুলতানা মুন্নি, মাজহারুল ইসলাম বাহার, নাসির উদ্দিন শাহ নয়ন, জামাল হোসেন বিষাদ, কামরুল হাসান ফেরদৌস শাহানা ইয়াসমীন সুমী, আনোয়ারুল আজিম জনি, মোঃ ফরহাদ উদ্দিন রূপক, রুখসানা আক্তার সুমী, আবদুল আউয়াল চৌধুরী তারেক, মোজাম্মেল হক, মনি রানী দেবী, আফরোজ জাহান আঁখি, হাফিজউদ্দিন বাহার, শুক্লা মজুমদার, সজল মজুমদার, বেলী দাস, শাহনাজ হাশেম মামুন (কাজল), মেহবুবা কামাল, দিলরুবা কামাল, ফাতেমা তুজ যাহ্রা ঐষী, অনিন্দিতা সাহা, রায়হান কায়সার হাশেম, ফজলুল হক, সারওয়ার-এ-দীন, কানু নন্দী, রতন বাউল, জুয়েল বাউল, ইন্দ্রজিত নন্দী, শাহেদা পারভীন জোৎস্না, আবন্তী পারভীন, গুলজার আহমেদ জুয়েল, বাবলু ভূঁঞা, নিশীথ গুপ্ত নোটন, ফৌজিয়া আক্তার, মোঃ শাহজাহান, জায়েদ মোহাইমেন প্রমুখ।
নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষাকে গানে ব্যবহার করে জেলার সুনাম বৃদ্ধি করেছেন অধ্যাপক মোঃ হাশেম। তিনি এ জেলায় আঞ্চলিক গানের সম্রাট নামে ইতিমধ্যেই পরিচিতি লাভ করেছেন। নিজের লেখা অনেক গান তিনি আঞ্চলিক ভাষায় রচনা করে সুরারোপ করেছেন। শিল্পী হিসেবে নিজেই গেয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যরা গাইছেন। দু’একটি গানের কলি উল্লেখ করছি।

আহারে ও কুলসুম
কইত্তুন আইল দুবাইয়ালা কইল্লোরে জুলুম।
আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী
রয়্যাল ডিস্ট্রিক্ট ভাই …….. ইত্যাদি।
মোঃ হান্নান আশি ও নব্বইয়ের দশকে ঠুমরী ও নজরুল সংগীতে একজন গুণী শিল্পী হিসাবে সারাদেশেই পরিচিতি লাভ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রত্যয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটÑ নোয়াখালী ১৯৮৯ সালে গঠনের পর বিগত বছরগুলোতে জেলার সংস্কৃতিকর্মী ও সাংস্কৃতিক দল-সংগঠনগুলোকে নিয়ে বৈশাখী মেলা, স্বাধীনতা উৎসব, নজরুল, রবীন্দ্র জয়ন্তীসহ সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জেলার খ্যাতিমান প্রথিতযশা শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংগঠকদের মধ্যে কয়েকজন গুণী ব্যক্তিত্ব তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ মুনীর চৌধুরী, কবির চৌধুরী, জহির রায়হান, কে জি মোস্তফা, রোজী সামাদ, আজিম, এ টি এম সামছুজ্জামান, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, ড. ইনামুল হক, লাকী ইনাম, নরেশ ভূঁঞা, প্রণব ভট্ট, ফরহাদ মজহার, মোঃ আতাউর রহমান, দিলারা জামান, সুলতানা জামান, সেলিম আল্-দ্বীন, ত্রপা মজুমদার, মাহফুজুর রহমান, গোলাম কুদ্দুস, লিলি লায়লা আনজুমান, কৈশিক সাহা, ফেরদৌস আরা, শাহীন সামাদ, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, শমী কায়সার, তারিন, খোন্দকার ইসমাইল, আনিস, টনি ডায়েস, হৃদি হক, শফিক বাবু ও হেলাল খান প্রমুখ।
স্বাধীনতার পর থেকে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান মহাধুমধামে পালিত হয়ে আসছে। ৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা বিজয় মঞ্চে বিভিন্ন সংগঠন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। পহেলা বৈশাখে শহীদ মিনার বিজয় মঞ্চ চত্বরে, শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ও দিঘির পাড়ে ঝাউতলায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানাদি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে অলোড়িত হয়ে আসছে।
বি. দ্র. : স্মৃতি বিভ্রাটের কারণে কিছু কিছু শিল্পী ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারিনি বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এ অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
লেখক : প্রয়াত সংগীতশিল্পী

শেয়ার করুনঃ

202 thoughts on “নোয়াখালীর সংস্কৃতি অঙ্গনকে যারা উজ্জীবিত করলেন”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

    রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০