‘বিট’ রাখুন প্রতিদিনের ডায়েটে

সুবর্ণ লাইফস্টাইল কর্ণার ডেস্ক : অনেক সময়ে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বাইরের দূষণ ও অনিয়মিত জীবনযাত্রা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু খাবার আছে যা প্রতিদিন খেলে আমরা শুধু ভালোই থাকব না, বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাঁচতেও পারবো। এই রকম জরুরি খাবারের মধ্যে রয়েছে বিট।

বিটে আছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, ক্লোরিন, আয়রন ও সোডিয়াম সহ নানা উপকারি উপাদান। যা ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে অ্যানিমিয়া, উচ্চ রক্তচাপ ও থাইরয়েডের মত সমস্যার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উপকারি। বিট আমাদের কিভাবে উপকারে আসে সেটা দেখি-

উচ্চ রক্তচাপ কমায় : বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি করে বিট খেলে বা বিটের রস পান করলে, উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়। এটি ওষুধের থেকেও ভালো কাজ করে। এতে থাকা নাইট্রেট নামক উপাদান এই কাজটি করে। শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। স্ট্রোকের হাত থেকে বাঁচায়।

লিভার ভালো থাকে : বিট হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। বদহজম ছাড়াও, এটি পেটের অন্যান্য রোগ যেমন জন্ডিস, ডায়রিয়া, প্রভৃতি রোগের ক্ষেত্রে খুব উপকারি। এটি ফ্যাটি লিভারের সমস্যাও নিয়ন্ত্রণ করে। লিভারের ফাংশানকে ভালো রাখে।

ক্যান্সার প্রতিরোধক : বিটে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার হাত থেকে বাঁচায়। এছাড়াও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বার করতে সাহায্য করে।

হাঁড় মজবুত রাখে : বিট হাড়ের জন্যও উপকার। হাড়কে মজবুত রাখতে রোজ বেশি করে খান বিট। এটি ক্যালসিয়াম ধরে রাখতে সাহায্য করে। হাঁড়ের যেকোনো সমস্যা রোধ করতে উপকারি। বেশি করে বিট খেলে, বয়স বাড়লে হাঁড়ের সমস্যায় ভুগতে হয় না।

ঋতুচক্রের সমস্যা দূর করে : সময়ের আগে মেনোপজের এর লক্ষণ দেখা দিলে বা ঋতুচক্র সংক্রান্ত কোন সমস্যা হলে বিটের জুস খান । বিটে থাকা আয়রন নতুন লোহিত রক্ত কণিকা গঠনে সাহায্য করে। যার ফলে ঋতুচক্রের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের দূর করতে : যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে তাদের উচিত বেশি করে বিটের জুস খাওয়া এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা বিপাকে সমস্যা দূর করে এবং হজম শক্তি বাড়ায়। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কেউ দূরে করে।

রক্তাল্পতা ও আয়রনের ঘাটতিতে : পেটে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা লোহিত রক্ত কণিকার জন্য অন্তত জরুরি উপাদান যে কারণে রক্তাল্পতায় ভুগছেন বা যাদের আয়রনের ঘাটতি রয়েছে তাদের বেশি করে খাওয়া উচিত। এছাড়াও বিট শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে : বিটের মধ্যে বিটা-ক্যারোটিন এবং ভিটামিন এ থাকে।যার ফলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন , রেটিনার ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। রোজ বিট খেলে যার ফলে আপনার দৃষ্টিশক্তির রাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া চোখের ছানির মত রোগকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

হতাশা দূর করে : বিটের মধ্যে প্রচুর মাত্রায় কার্বোহাইড্রেটের রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত বিটের রস খেলে অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাই এবং সার্বিকভাবে শরীরের সচলতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত মধ্যে বিটের জুস খেলে শরীরের এনার্জির ঘাটতি দূর করে।হতাশা দূর করে, মনও ভালো রাখে। বিটের জুস খেলে মন সঙ্গে সঙ্গে ভালো হয়ে যায়। বিটের বিটেইন নামক উপাদান মন ভালো রাখতেও সাহায্য করে।

ত্বকের জন্য : বিটের রস মুখমন্ডলে ম্যাসাজ করলে, ফুলের পাপড়ির ন্যায় ত্বক নরম এবং কোমল থাকে। বিট মৃত কোষ অপসারণ করতে সহায়তা করে পাশাপাশি নতুন কোষের প্রতিস্থাপন করে। নিয়মিত বিট রস পান করা, এবং ১ চামচ বিট রস ও ১ চামচ লেবুর রস মিশ্রণ করে, রাতে মুখমন্ডলে হালকা ভাবে ম্যাসাজ করুন এবং ১৫ মিনিট বাদে ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার ত্বকের বর্ণের উজ্জ্বলতা বাড়াতে আশ্চর্য কাজ করবে। নিয়মিত বিট রসের ব্যাবহার আপনার চোখর নিচে কালো দাগ দূর করতে সহায়তা করে।

তাই প্রতি দিনের খাবার তালিকায় বিট রাখুন। বিট জুস, সালাড, সুপ, সেদ্ধ বা তরকারি করে খেতে পারেন।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

    রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০