সেনবাগে ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে নিহত ৪ শহীদের কবর সরকারিভাবে পাকাকরণে স্বস্তি পরিবারে

খোরশেদ আলম, সেনবাগ : অবশেষে দীর্ঘ ৫২ বছর পর ৬৯’ এর ১৯ ফেব্রুয়ারি  গনআন্দোলনের উত্তাল দিনে নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশের গুলিতে নিহত চার শহীদের কবর  চিহ্নিত করে উপজেলা প্রশাসন  তা পাকা করণের কাজ সম্পন্ন  করে।  সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম মজুমদারের সার্বিক সহযোগীতায় ও উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এ কাজ  বাস্তবায়ন করে।  কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ দশক পর  চার শহীদের কবর চিহ্নিত করে পাকা করনে নিহতদের পরিবারে স্বস্তি ফিরে আসে।

নিহত চার শহীদ হলেন-উপজেলার অর্জুনতলা গ্রামের অফিজের রহমান, বাবুপুর গ্রামের আবুল কালাম আজাদ, জিরুয়া গ্রামের সামছুল হক ও মোহাম্মদপুর গ্রামের খুরশিদ আলম।

১৯ ফেব্রুয়ারি  নিহতের ঘটনার  তিনদিন পর  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেনবাগে এসে নিহত চার শহীদের কবর জিয়ারত করেন এবং বঙ্গবন্ধু নিজেই ওইদিন শহীদ পরিবারের লোকজনের হাতে ৫শত টাকা করে অনুদান প্রদান করেন।

এ  ঘটনা নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে দীর্ঘ বছর ধরে বহু প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে-৬৯’ এর ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘটনার পরদিন ২০ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাককে নোয়াখালীর সেনবাগে গুলিতের তিনজন (পরে রাতে একজনসহ চারজন) নিহতের খবর দ্বিতীয় লিড হিসেবে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

শহীদদের সহকর্মি ও তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সহযোগী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের জানান, ১৯৬৯সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী যখন আন্দেলন ভয়াবহ রূপ লাভ করে তখনি ১৫ ফেব্রুয়ারী সার্জেন জহুরুল হককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা বিক্ষোভে পেটে পড়লে ১৪৪ ধারা জারী করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারী পুলিশের গুলিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সামসুজ্জোহা নিহত হয়। হত্যার প্রতিবাদে গোটা দেশের ন্যায় পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্দ হয়ে উঠেছিলো নোয়াখালীর সেনবাগের ছাত্র জনতা। ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে সেইদিন ছাত্রজনতা রাস্তায় নেমে আসে।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে তারা তখন সেনবাগ থানায় কালো পতাকা উত্তোলনের দাবিতে থানা ঘেরাও করে। যার পরবর্তীতে ছাত্র জনতার ওপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে অফিজের রহমান, আবুল কালাম, সামছুল হক ও খুরশিদ আলম নামের চারজন নিহত হয়। ওই সময় ওই ঘটনায় গুলিবৃদ্ধ হয় আরো ২০-২৫ জন। স্বাধীনতার পর  দীর্ঘ সময় পার হলেও সেনবাগে নিহত এই চার শহীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি    পায়নি ।  এর প্রতিবাদে  বহু সভা- সমাবেশ অনুষ্ঠিত  হয়েছে। যা নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকসহ  বিভিন্ন জাতীয়  দৈনিককে বহু লেখা লেখি  হয়।

সে  দিনের গনআন্দোলনে পুলিশের গুলিতে পঙ্গত্ববরণকারী মাষ্টার নাছির উদ্দিন   বলেন, গন আন্দোলনের সূত্র ধরে দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়। সে যুদ্ধে দেশ স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘ এতোটি বছর পর ’৬৯ এর ১৯ ফেব্রুয়ারি গনআন্দোলনে নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশের গুলিতে নিহত চার শহীদের কবর চিহ্নিত করে সরকারিভাবে পাকা করণের স্বস্তি প্রকাশ করেন। আর কিছু হউক বা হউক এসব শহীদরে কবর গুলো দেখে আগামী প্রজন্মের কাছে স্মরনীয় থাকবে।

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, ’৬৯ এর ১৯ ফেব্রুয়ারি গনআন্দোলনে নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশের গুলিতে নিহত চার শহীদের বিষয়টি তার নজরে আসার পর প্রথমে কবর গুলো চিহ্নিত করা হয়। এর পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর মাধ্যমে কাজটি সম্প্রতি সম্পন্ন করা হয়।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

    রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯